ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ , ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪৮ ঘণ্টা পেরোলেও গ্রেপ্তার নেই: উল্লাপাড়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলায় প্রশাসনের নীরবতা—আইনের শাসন নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-২৬ ২০:৫৪:২৪
৪৮ ঘণ্টা পেরোলেও গ্রেপ্তার নেই: উল্লাপাড়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলায় প্রশাসনের নীরবতা—আইনের শাসন নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ৪৮ ঘণ্টা পেরোলেও গ্রেপ্তার নেই: উল্লাপাড়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলায় প্রশাসনের নীরবতা—আইনের শাসন নিয়ে তীব্র প্রশ্ন
মো:কোরবান আলী রিপন, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
উল্লাপাড়া উপজেলা-এ দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিত হামলার ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করতে না পারা—একে সরাসরি প্রশাসনিক ব্যর্থতা বলেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বরং এ নীরবতা ও বিলম্ব অনেকের কাছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
 
মামলা সূত্রে জানা যায়, বালসাবাড়ী এলাকায় ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা হাইব্রিড সিল্ক সুতা খালাসের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ ওঠে। এমন গুরুতর অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হামলার শিকার হন—যা কেবল ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্রের আইন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
 
অভিযোগ অনুযায়ী, আলামিন জোয়াদ্দার ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে দৈনিক শ্যামল বাংলা’র প্রতিনিধি তুহিন আলম, দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর প্রতিনিধি আতাউর রহমান রাজু এবং গ্রীন টিভি-এর প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম গুরুতরভাবে আক্রান্ত হন। হামলাকারীরা শুধু শারীরিক আঘাতেই থেমে থাকেনি—তারা ক্যামেরা ও মোবাইল ভাঙচুর করে প্রমাণ নষ্টের অপচেষ্টা চালিয়েছে, যা একটি সুস্পষ্ট অপরাধ আড়াল করার কৌশল।
 
সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক—এত স্পষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এখনো কোনো গ্রেপ্তার নেই। অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যত নির্বিকার। এতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে—আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি প্রভাবশালীদের জন্য ভিন্ন?
 
স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ বলছে, “এটি আর কোনো সাধারণ মামলা নয়—এটি আইনের শাসনের সরাসরি পরীক্ষা।” দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এর দায় এড়াতে পারবে না প্রশাসন—এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
 
সিনিয়র সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বলেন, “এই ঘটনা প্রমাণ করে—দুর্বৃত্তরা কতটা সাহসী হয়ে উঠেছে। যদি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এটি ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
 
সিনিয়র সাংবাদিক এ আর জাহাঙ্গীর বলেন, “৪৮ ঘণ্টা পার হলেও শূন্য অগ্রগতি—এটি শুধু গাফিলতি নয়, বরং দায়বদ্ধতার চরম সংকটের বহিঃপ্রকাশ।”
 
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা-র অফিসার ইনচার্জ মোক্তারুজ্জামান জানান, “গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে”—তবে এই প্রচলিত বক্তব্য এখন আর জনমনে কোনো আস্থা তৈরি করতে পারছে না।
 
সচেতন মহলের মতে, এখনই যদি দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে এটি স্পষ্ট বার্তা দেবে—অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, আর আইনের শাসন কাগজেই সীমাবদ্ধ। প্রশাসনের জন্য এটি এখন আর শুধু একটি মামলা নয়—এটি তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও কার্যকারিতার চূড়ান্ত পরীক্ষা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : nafizhasan889900@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ